রিসার্চঃ শুরু করবেন কিভাবে ?

আন্ডারগ্র্যাড লেভেলে রিসার্চ আসলেই চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে অসম্ভব না। একটু গুছিয়ে শুরু করলে কয়েক মাসের মধ্যেই রিসার্চ এর কাজ শেষ করা যায়।
তবে চ্যালেঞ্জ এর বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। আপনি যদি এমন কোন বিষয় নিয়ে রিসার্চে আগ্রহী হন যাতে আপনার কোন পূর্ব জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই তাহলে আপনার কাজ প্রায় তিন গুন। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা এবং এক্সপেরিমেন্ট সম্পরকিত পড়াশোনা এবং অন্যান্য কাজ সমান্তরাল ভাবে চালিয়ে যেতে হবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কঠোর পরিশ্রম এবং একাগ্রতা আপনাকে আপনার কাংখিত স্থানে পৌঁছে দিতে পারে।
এই আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে রিসার্চের কাজ কিভাবে শুরু করা যায়।

১. বিগ পিকচারঃ রিসার্চের বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি একটা স্পষ্ট ধারনা রাখতে হবে। মনে করুন আপনার রিসার্চ রোবটিক্স নিয়ে। রোবটিক্স এর আবার অনেক ফিল্ড আছে, যাদেরকে আমরা সাব-ফিল্ড বলতে পারি। তার মধ্যে কোন একটা সাব-ফিল্ড হয়ত আপনার রিসার্চ এরিয়া। আপনার প্রথম কাজ হবে রোবটিক্স সম্পর্কে একটা ভাল ধারনা অর্জন করা। এখানে কি কি হয়, কিভাবে হয়, কি কাজে লাগানো যায় ইত্যাদি জানা আবশ্যক।


২.ব্রেইন স্টরমিংঃ এই ধাপটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং একটু ঝামেলার। যেহেতু রিসার্চ মানেই নতুন আইডিয়া, সেহেতু আইডিয়া চাই। আর এ জন্য প্রচুর ভাবতে হবে। সাথে পড়তে হবে। আপনার পছন্দের বিষয়ের উপর গবেষণা, জার্নাল ইত্যাদি পড়ুন। বুঝতে চেষ্টা করুন কি হচ্ছে। কে কোন সমস্যা কিভাবে সমাধান করছে। আপনি আপনার মত করে সমাধান চিন্তা করুন। লিখে রাখুন যা কিছু প্রয়োজনীয় মনে হয়। আপনার সুপারভাইজারের সাথে আলাপ করুন, তার মতামত নিন। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষণীয়ঃ

  •  প্রথমেই কঠিন কিছু ভাববেন না। 
  • বেসিক থেকে শুরু করার চেষ্টা করবেন। জটিল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা প্রথমে না করাই ভাল।
  • নিজের কাজ সম্পর্কে নিজেকে প্রশ্ন করুন, নিজেই উত্তর দিন। দেখুন আপনার উত্তর আপনাকে সন্তুষ্ট করে কিনা।


৩. সংকল্পঃ ব্রেইন স্টরমিং শেষ করার পরের ধাপে আপনাকে আপনার কাজ [যে সমস্যা সমাধান করবেন/Problem domain] ঠিক করতে হবে। এবং যেকোনো মূল্যে কাজ শেষ করার প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

৪. রিলেটেড ওয়ার্কঃ আপনার কাজের সাথে কিছুটা বা অনেকাংশে মিল আছে এরকম কাজ গুলো ভালমত পরিক্ষা নিরীক্ষা করুন। বারবার করুন। তাদের সাথে আপনার কাজের পার্থক্য কোথায় তা বের করতে চেষ্টা করুন। আপনার কাজ কেন অন্যদের তুলনায় ভাল সেটা আপনাকেই বুঝতে হবে। সেটা হতে পারে নতুন কোন টেকনিক বা আগের চেয়ে ভাল রেসাল্ট।

৫. ঝাঁপ দিনঃ এখন আপনার কাজ হচ্ছে কোমরে গামছা বেঁধে কাজে ঝাপিয়ে পড়া। এজন্য একটা রুটিন তৈরি করে নিতে পারেন নিজের মত করে। কখন কোড আপ করবেন, কখন ভাববেন, কখন পড়বেন, কখন লিখবেন তা সম্পূর্ণই আপনার বিষয়। রুটিন করুন আর নাই করুন, প্রতিদিন কিছুটা হলেও কাজ করুন। মনে রাখবেন নিজেকে নিজে ফাঁকি দেওয়ার মত বোকামি আর নেই।

৬. লিখে ফেলুনঃ এক্সপেরিমেন্ট এবং বাকি কাজ শেষ, এখন শেষ কাজ লিখা। রিসার্চ পেপার লেখার জন্য কিছু নিয়মকানুন আছে। সেগুলো অনুসারে লিখে ফেলুন আপনার রিসার্চ পেপার।